আজকে তুর্কি ওসমানিয় সেনাদের হাতে ব্রিটিশ বাহিনীর পরাজয়ের ১০৫ তম বার্ষিকী আন্তর্জাতিক

আজ হতে ১০৫ বছর আগে ১৯১৬ সালের এই দিনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে দক্ষিণ ইরাকের আল-কুত অঞ্চলে তুর্কি ওসমানিয় সেনাদের হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় ব্রিটিশ-ভারতীয় বাহিনী।

মেজর জেনারেল চার্লস টাউনশেন্ডের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ-ভারতীয় বাহিনীর ষষ্ঠ পুনা ডিভিশনের ১৩ হাজার সেনা তুর্কি সেনাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ইতিহাসে এ ঘটনা ছিল ব্রিটিশ সেনাদের আত্মসমর্পণের সবচেয়ে বড় ঘটনা। বন্দিদেরকে হাঁটিয়ে সিরিয়ার আলেপ্পোর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ও তুরস্ক ছিল মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ। সেই যুগে ইরাক, (লেবানন, ফিলিস্তিন ও জর্দানসহ) বৃহত্তর সিরিয়া ও হিজাজ তথা বর্তমান সৌদি আরব ও ইয়েমেন ছিল তুর্কি ওসমানিয় খিলাফতের শাসনাধীন। 

তুর্কি সেনারা ১৪৭ দিন ধরে কুতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছিল। এ সময় কয়েকটি ব্রিটিশ ব্যাটেলিয়ন অবরোধ ভাঙ্গার জন্য শেইখ সাদ, ওয়াদি ও হান্না অঞ্চলে যুদ্ধ করে। কিন্তু এইসব যুদ্ধেই তারা পরাজিত হয়। 

জীবিত ৮ হাজার ব্রিটিশ সৈন্যকে যুদ্ধবন্দী করা হয়। বন্দীদশায় প্রায় অর্ধেক সেনা অনাহারে মারা যায়। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জেমস মুর কুত-আল-আমারার পরাজয়কে ব্রিটেনের সামরিক ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক পরাজয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। কারণ, পুরো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে একমাত্র এখানেই একজন জেনারেল আত্মসমর্পণ করেন। এই বিজয় তুরস্ককে আরো দুই বছর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে সাহায্য করেছিল। শুধু তাই নয় তৎকালীন বৃহত্তম শক্তি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে এই বিজয় মুসলিম বিশ্বেও আলোড়ন তুলেছিল। পরবর্তীকালেও তা তুরস্কের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে ব্যাপক প্রেরণা যুগিয়েছিল। 

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম যৌবনে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানদের ওই মহাবিজয়ে গৌরব অনুভব করেছিলেন। (ব্রিটেনের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য তারও ইরাকে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল করাচি সেনানিবাস থেকে।) নজরুল তার ‘শাতিল-আরব’ কবিতায় আল-কুতের ঐতিহাসিক ওই বিজয়কে স্মরণ করে লিখেছিলেন, ‘‘কুত আমারার রক্তে ভরিয়া/দজলা এনেছে লহুর দরিয়া।’’ তিনি ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের সমুচিত শিক্ষা দিয়ে পরাধীন ব্রিটিশ ভারতকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখতেন। আর এ জন্যই তিনি লিখেছিলেন:

ইরাক-বাহিনী! এ যে গো কাহিনী,–কে জানিত কবে বঙ্গ-বাহিনী তোমারও দুঃখে ‘জননী আমার!’ বলিয়া ফেলিবে তপ্ত নীর! রক্ত-ক্ষীর–পরাধীনা! একই ব্যথায় ব্যথিত ঢালিল দু-ফোঁটা ভক্ত-বীর।শহীদের দেশ! বিদায়! বিদায়!! এ অভাগা আজ নোয়ায় শির! # 

রেডিও তেহরান